আমি আপনার খুব কাছের কেউ, লজ্জায় পরিচয় দিচ্ছি না!

shifat100

"আমি আপনার খুব কাছের কেউ, লজ্জায় পরিচয় দিচ্ছি না!" - ঈদের আগে নতুন SMS প্রতারণা থেকে সাবধান!


ঈদ মানেই আনন্দ, আর সামর্থ্য অনুযায়ী কাছের মানুষ ও গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। যাকাত, ফিতরা বা ঈদ সেলামির মাধ্যমে আমরা সবাই চাই অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু আমাদের এই মানবিকতা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে একদল সাইবার প্রতারক পেতেছে নতুন ফাঁদ।

সম্প্রতি অনেকের মোবাইলেই একটি নির্দিষ্ট ধরণের SMS আসছে, যা পড়লে যে কারও মন কেঁদে উঠতে পারে। কিন্তু একটু সতর্ক না হলেই আপনি পা দেবেন প্রতারকদের পাতা বড়সড় এক ফাঁদে।

মেসেজটিতে কী লেখা থাকছে?

প্রতারকরা সাধারণত Banglish (ইংরেজি অক্ষরে বাংলা) ব্যবহার করে মেসেজ পাঠায়। মেসেজটির ধরন ঠিক এরকম:

"Bulbul/Mamun vaiya ami apnar khub kacher kew. Lojjai porichoy dete chacchi na. Amader family te onek aarthi crisis cholche, ovab jacche, samne Eid. Akhono kisu kenai hoy nai. Apnader Fitra, Zakat ba Eid Salami hisebe kisu tk pathale khub upokar hobe. Opekkhai thaklam. Bkash+Nagad send money nmbr 016******"

(উল্লেখ্য, এখানে 'বুলবুল' নাম এবং ফোন নাম্বারটি পরিবর্তন করে প্রতারকরা অটোমেটিক সিস্টেমে বিভিন্ন মানুষকে মেসেজ পাঠিয়ে থাকে।)

এই প্রতারণার পেছনের সাইকোলজি বা কৌশলগুলো কী?

এই ছোট একটি মেসেজের মধ্যে প্রতারকরা চমৎকার কিছু মানসিক কৌশল বা 'ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল' ব্যবহার করে:

  1. পরিচয় গোপন রাখা: মেসেজের সবচেয়ে চতুর অংশ হলো— "লজ্জায় পরিচয় দিতে চাচ্ছি না"। এর ফলে মেসেজ প্রাপক মনে করেন, সত্যিই হয়তো তার কোনো আত্মীয় বা পরিচিত বন্ধু বিপদে পড়ে এই মেসেজ দিয়েছে, যাকে সে চিনতে পারছে না।
  2. আবেগ নিয়ে খেলা: 'আর্থিক ক্রাইসিস', 'অভাব', 'ঈদের কেনাকাটা হয়নি'—এই শব্দগুলো সরাসরি মানুষের ইমোশনে আঘাত করে।
  3. ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার: 'যাকাত' বা 'ফিতরা'র কথা বলে প্রতারকরা প্রাপকের ধর্মীয় দায়িত্ববোধকে উসকে দেয়। রমজান মাসে মানুষ এমনিতেই বেশি দান-সদকা করে, আর প্রতারকরা ঠিক এই সুযোগটাই নেয়।
  4. অল্প টাকার টোপ: তারা সরাসরি বিশাল কোনো এমাউন্ট চায় না। যাকাত বা ফিতরার কথা বলায় মানুষ সাধারণত ৫০০, ১০০০ বা ২০০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। প্রতারকরা যদি দিনে এমন ১০০ জনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করেও পায়, তবে তাদের দিনে আয় ৫০ হাজার টাকা!

এটি যে স্ক্যাম, বুঝবেন কীভাবে?

  • গণহারে মেসেজ (Mass SMS): এই মেসেজটি শুধু আপনাকে নয়, একসাথে কয়েক হাজার বা লাখ লাখ নাম্বারে পাঠানো হয় অটোমেটেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
  • নামের ব্যবহার: অনেক সময় তারা ট্রু-কলার (Truecaller) বা অন্য কোনো ডাটাবেজ থেকে আপনার নাম সংগ্রহ করে মেসেজের শুরুতে বসিয়ে দেয়, যাতে মেসেজটি একদম 'রিয়েল' মনে হয়।
  • ফোন রিসিভ না করা: আপনি যদি ওই নাম্বারে কল করেন, দেখবেন তারা কল ধরবে না বা নাম্বার বন্ধ করে রাখবে। কারণ কথা বললেই তাদের আসল পরিচয় বা গলার স্বর ফাঁস হয়ে যাবে।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?

  1. যাচাই ছাড়া এক টাকাও নয়: এমন মেসেজ পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে সাথে সাথে টাকা পাঠাবেন না। কল করে পরিচয় জানার চেষ্টা করুন। সত্যিকারের বিপদে পড়া মানুষ পরিচয় গোপন করে না।
  2. পরিচিতদের দান করুন: যাকাত বা ফিতরা দেওয়ার জন্য আপনার আশেপাশের সত্যিকারের গরিব আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করুন। বেনামী কোনো নাম্বারে যাকাত দিলে তা আদায় না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
  3. সচেতনতা বাড়ান: আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্য (বাবা-মা, চাচা-মামা) যারা সহজে ইমোশনাল হয়ে যান, তাদেরকে এই প্রতারণার ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন।
  4. রিপোর্ট করুন: এ ধরনের মেসেজ আসলে বিকাশ বা নগদের হেল্পলাইনে (১৬২৪৭ / ১৬১৬৭) কল করে নাম্বারটি সম্পর্কে অভিযোগ বা রিপোর্ট করতে পারেন।

প্রতারকরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই অনলাইনে বা মোবাইলে যেকোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে "আবেগের চেয়ে বিবেক" বেশি কাজে লাগানো জরুরি। নিজে সতর্ক থাকুন এবং এই পোস্টটি শেয়ার করে আপনার বন্ধু ও পরিবারকেও নিরাপদ রাখুন!

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.