শো-রুম সহকারী পদের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা
ঢাকার রাস্তাঘাট, বাস স্ট্যান্ড বা অলিতে-গলিতে প্রায়ই ছোট ছোট কাগজে একটি লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। বড় বড় শপিং মল যেমন—যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটি-র নাম ব্যবহার করে এই বিজ্ঞপ্তিগুলো দেওয়া হয়।
গ্রাম থেকে আসা বেকার যুবক বা ঢাকায় নতুন আসা ছাত্রদের টার্গেট করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। চলুন দেখে নিই এই প্রতারক চক্রের বিজ্ঞাপনের ধরণ এবং কীভাবে তারা মানুষের পকেট কাটে।
বিজ্ঞাপনটি দেখতে কেমন হয়?
প্রতারকরা সাধারণত খুব অল্প কথায় এবং লোভনীয় সুযোগ-সুবিধার কথা বলে বিজ্ঞাপন সাজায়। ঠিক যেমনটি নিচে দেওয়া হলো:
জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
পদবি: শো-রুম সহকারী / সুপারভাইজার
বেতন: ১৬,৫০০ টাকা
সুবিধা: থাকা ফ্রি, খাবারের সুব্যবস্থা আছে
লোকেশন: ঢাকা যমুনা (ফিউচার পার্ক)
যোগাযোগ: 01816354110
কেন এটি ১০০% ভুয়া বা স্ক্যাম?
একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলেই এই বিজ্ঞাপনের অসঙ্গতিগুলো আপনার চোখে পড়বে:
- ব্র্যান্ডের নাম নেই: যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটিতে হাজার হাজার ব্র্যান্ডের শো-রুম আছে (যেমন: Aarong, Yellow, Infinity ইত্যাদি)। আসল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা দোকানের নাম থাকবে। শুধু "শো-রুম" বলে কোনো চাকরি হয় না।
- মোবাইল নাম্বারে নিয়োগ: যমুনার মতো জায়গায় কোনো শো-রুম তাদের স্টাফ নিয়োগের জন্য রাস্তার দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (01816354110) দিয়ে রাখে না। তাদের নিজস্ব এইচআর (HR) ডিপার্টমেন্ট বা বিডিজবসের মতো প্রফেশনাল মাধ্যম থাকে।
- থাকা-খাওয়ার টোপ: ঢাকায় ১৬,৫০০ টাকা বেতনের চাকরিতে কোনো কোম্পানি "থাকা এবং খাওয়া" ফ্রি দেয় না। এটি মূলত গ্রামের অসহায় ছেলেদের ঢাকায় আনার একটি ফাঁদ, যাতে তারা থাকার জায়গা পাওয়ার আশায় দ্রুত চলে আসে।
ফোন করলে বা যোগাযোগ করলে কী হবে?
আপনি যখন এই নাম্বারে কল করবেন, তখন তারা আপনাকে যমুনা ফিউচার পার্কের আশেপাশে কোনো এক চিপা গলির অফিসে ডাকবে (কখনোই মূল শপিং মলে ডাকবে না)। সেখানে যাওয়ার পর যা ঘটবে:
- ফর্ম পূরণ ও জামানত: অফিসে ঢোকার পরেই তারা আপনাকে দিয়ে একটি ফর্ম পূরণ করাবে এবং "রেজিস্ট্রেশন ফি" বা "জামানত" হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা চাইবে।
- ট্রেনিং ফি: এরপর তারা বলবে, "আপনার চাকরি কনফার্ম, কিন্তু শো-রুমে দাঁড়ানোর আগে আপনাকে ৩ দিনের ট্রেনিং করতে হবে।" এই ট্রেনিংয়ের নাম করে তারা ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা দাবি করবে।
- আইডি কার্ড ও ইউনিফর্ম: টাকা দেওয়ার পর তারা আরও টাকা চাইবে আইডি কার্ড বা ড্রেস বানানোর নাম করে।
- ভুয়া ইন্টারভিউ ও হয়রানি: টাকা নেওয়ার পর তারা আপনাকে দিনের পর দিন ঘুরাবে। অথবা এমন কোনো ভুয়া কাজ বা টার্গেট ধরিয়ে দেবে যা পূরণ করা অসম্ভব, যাতে আপনি নিজে থেকেই পালিয়ে যান।
সতর্কতা ও করণীয়
মনে রাখবেন, যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটির কোনো শো-রুমের চাকরি পেতে ১ টাকাও ঘুষ বা জামানত লাগে না।
রাস্তার দেয়ালে বা পোলে লাগানো "জরুরি নিয়োগ" বিজ্ঞপ্তিগুলো ৯৯% ক্ষেত্রে ভুয়া। এই নাম্বারগুলোতে কল করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না এবং ভুলেও কোনো টাকা বিকাশে বা নগদে পাঠাবেন না।
📌 বিশেষ অনুরোধ: আপনার পরিচিত কেউ চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসলে তাকে এই "শো-রুম স্ক্যাম" সম্পর্কে আগেই সতর্ক করে দিন। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।
