"বিনা জামানতে চাকরি!" - সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের নামে সর্বস্বান্ত করার নতুন ফাঁদ
বেকারত্বের এই যুগে একটি ভালো চাকরির খোঁজ সবাই করেন। বিশেষ করে যারা গ্রাম থেকে শহরে আসেন একটু ভালো উপার্জনের আশায়, তারা অনেক সময়ই সহজ-সরল হয়ে থাকেন। এই সরলতা এবং চাকরির তীব্র প্রয়োজনকে পুঁজি করে ফেসবুকে বা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক প্রতারণার জাল।
চাকরির বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা থাকে 'কোনো জামানত লাগবে না', কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর এক প্রতারণার ছক। চলুন জেনে নিই কীভাবে 'সিকিউরিটি গার্ড' বা 'বাসাবাড়ি দেখাশোনা'র চাকরির নামে নিরীহ মানুষদের ঠকানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপনটি দেখতে কেমন হয়?
প্রতারকরা সাধারণত ফেসবুক গ্রুপ, রাস্তাঘাটের পোস্টার বা লিফলেটে এই ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বিজ্ঞাপনের ভাষা ঠিক এরকম হয়:
# বাসাবাড়ি দেখাশোনার জন্য ২ জন বিশ্বস্ত গার্ড প্রয়োজন
( চাকরি নেয়ার জন্য কোন ঘুষ জামানোত লাগবেনা )
#বেতন ঃ ১৬ হাজার টাকা।
##থাকা, সম্পূর্ণ ফ্রী।
খাওয়ার সুব্যাবস্থা আছে।
ঈদে বোনাস ও বকশিস পাবেন।
##যোগাযোগঃ
01********* (whats up)
ডিউটিঃ ৮-ঘন্টা
##কর্ম স্হান: যমুনা, বসুন্ধরা আবাসিক , ঢাকা
যেভাবে পাতা হয় প্রতারণার ফাঁদ
বিজ্ঞাপনে 'কোনো টাকা লাগবে না' লেখা থাকলেও, আসল খেলা শুরু হয় যোগাযোগের পর। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর বা বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এই চক্রটি বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের প্রতারণার ধাপগুলো হলো:
- পোশাক বা ড্রেসের নামে চাঁদাবাজি: চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা পাকাপাকি হওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীর পোশাকের মাপ নেয়। এরপর বলা হয়, "চাকরির জন্য কোনো টাকা লাগবে না ঠিকই, কিন্তু আপনার ইউনিফর্ম বা ড্রেস বানানোর জন্য ২৫০০ (বা তার বেশি) টাকা দিতে হবে।" চাকরি পাওয়ার আশায় অনেকেই ধারদেনা করে এই টাকা দিয়ে দেন।
- কৃত্রিম সংকট ও ভুয়া ইন্টারভিউ: ড্রেসের টাকা নেওয়ার পর বলা হয়, "আমাদের হাতে সময় কম এবং লোক বেশি নেওয়া হবে না, তাই তাড়াতাড়ি অন্য একটি জায়গায় গিয়ে ইন্টারভিউ দিতে হবে।" ভুক্তভোগীকে তখন বসুন্ধরা বা যমুনার মতো অভিজাত এলাকার কথা বলে অন্য কোনো অপরিচিত জায়গায় বা ভুয়া অফিসে পাঠানো হয়।
- অমানুষিক খাটুনি ও মানসিক নির্যাতন: অনেক ক্ষেত্রে তারা লোক দেখানো একটা কাজে ঢুকিয়েও দেয়। কিন্তু সেখানে ৮ ঘণ্টার কথা বলে অমানুষিক খাটুনি খাটানো হয়। এমন অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যাতে ভুক্তভোগী টিকতে না পেরে নিজে থেকেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।
- বেতন ও খাবার না দেওয়া: বিজ্ঞাপনে থাকা এবং খাওয়ার সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কিছুই দেওয়া হয় না। মাস শেষে প্রতিশ্রুত ১৬ হাজার টাকা বেতন তো দূরের কথা, উল্টো নানা অজুহাতে টাকা কেটে নেওয়া হয় অথবা কোনো টাকাই দেওয়া হয় না।
কীভাবে বুঝবেন এটি ভুয়া সার্কুলার?
- ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ: বসুন্ধরা বা যমুনার মতো বড় আবাসিক এলাকায় গার্ড নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট সিকিউরিটি কোম্পানি রয়েছে। তারা কখনোই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা WhatsApp-এ বিজ্ঞাপন দেয় না।
- ড্রেসের জন্য অগ্রিম টাকা: কোনো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ড্রেসের জন্য আগে টাকা চায় না। প্রয়োজনে তারা প্রথম মাসের বেতন থেকে ড্রেসের টাকা কেটে নেয়। আগে টাকা চাওয়া মানেই প্রতারণা।
- অবাস্তব সুযোগ-সুবিধা: কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করে ৮ ঘণ্টা ডিউটিতে ১৬ হাজার টাকা বেতন, সাথে থাকা-খাওয়া ফ্রি—এগুলো বাস্তবে খুব একটা দেখা যায় না। এটি মূলত লোভ দেখানোর ফাঁদ মাত্র।
আমাদের করণীয়
চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে সবসময় যাচাই-বাছাই করে পা বাড়াতে হবে। ফেসবুকে অপরিচিত কারও দেওয়া বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে কখনোই টাকা পাঠাবেন না। আপনার পরিচিত কোনো বেকার ভাই বা আত্মীয় যদি এমন চাকরির খোঁজ পেয়ে থাকেন, তবে তাকে আগেভাগেই সতর্ক করুন।
মনে রাখবেন, যে চাকরি দেওয়ার আগেই আপনার কাছ থেকে টাকা চায়, সে কখনোই আপনাকে চাকরি দেবে না। সচেতন হোন, প্রতারণা থেকে দূরে থাকুন।
📌 নোট: পোস্টটি শেয়ার করে সাধারণ মানুষদের সচেতন করুন। আপনার আশেপাশে এমন ভুয়া বিজ্ঞাপনের সন্ধান পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পারেন।
